আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের প্রতি এখনো তেহরানের ‘গভীর অবিশ্বাস’ বজায় রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে এখনো ইরানি জনগণের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এটা স্বীকার করতেই হবে যে, এই চুক্তি কোনোভাবেই শত্রুর ওপর আস্থা প্রকাশ করে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাসের মূলে রয়েছে মার্কিন নেতাদের দীর্ঘদিনের অন্যায় কর্মকাণ্ডের ইতিহাস ও ১৯৫৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই এই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে’।
সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিকে কেবল উত্তেজনা হ্রাস এবং ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া একটি যুদ্ধের অবসানের একটি পদক্ষেপ— উল্লেখ করে বাঘাই আরও বলেন, ‘ইরানি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’
পৃথকভাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘চুক্তিটি অবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এবং মার্কিন পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি ঠিকমতো পালন করছে কি না, তা ইরান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
লেবাননে যুদ্ধের অবসান এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার শান্তি চুক্তির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলেও জোর দিয়েছেন বাঘাই।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্ব এবং লেবাননের জনগণকে বলতে চাই, লেবাননে যুদ্ধের অবসান ঘটানো এই সমঝোতা স্মারকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। চূড়ান্ত খসড়া চুক্তিতে ‘লেবানন’ শব্দটি সুনির্দিষ্টভাবে তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশটির আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি ইরানের জোরালো অবস্থানের প্রমাণ”।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তিচুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পাদিত এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়।
বেন-গভির আরও বলেন, ‘আমরা এই চুক্তির অংশীদার নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। আমাদের যোদ্ধারা (লেবাননে) যে অঞ্চল দখল করেছে, সেখান থেকে আমাদের সরে আসা উচিত নয়।’
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও হুঁশিয়ারি দিয়ে এই ইসরায়েলি মন্ত্রী বলেন, ‘লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে কোনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তার জবাবে বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় সরাসরি শক্তিশালী হামলা চালানো হবে’।
হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও ধ্বংস করা ছাড়া ইসরায়েলের সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন বেন-গভির।
প্রসঙ্গত, টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর অবশেষে একটি ১৪ পয়েন্টর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রের মতে, অতীতের চুক্তিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক রেকর্ড রয়েছে। তাই বর্তমান চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা, ডন
এমএইচআর