আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপিরা। রোববার সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এমনটাই জানিয়ে এলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের ২০ জন এমপি।
ওই দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকটি। দলটির নাম ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)।
বাঁকুড়ার এমপি অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দলটি ত্রিপুরার। যদিও নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, এই নামের একটি দল ২০২৩ সালে আরইউপিপি (রেজ়িস্টার্ড আন রেকগনাইজ়ড পলিটিক্যাল পার্টি) তালিকাভুক্ত হয়।
ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া। যদিও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দলটি এনসিপিএন নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই দলে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএকেই সমর্থন করবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা।
ত্রিপুরার রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা কেউই অবশ্য এই দলটির সম্পর্কে বিশেষ কোনও তথ্য দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে সে রাজ্যের ধলাই জেলার চৌমানু এবং উনকোটি জেলার কৈলাসহর কেন্দ্রে এনসিপিআই-এর প্রার্থীরা ভোটে লড়েছিলেন।
তবে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা, তা স্পষ্ট নয়। দু’টি আসনে ভোটে লড়ে এই দলের প্রার্থীরা ৮২২টি ভোট পেয়েছিলেন (০.০৩ শতাংশ)।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল সুদীপ-কাকলিরা তৃণমূলের মধ্যেই আলাদা ব্লক গড়ে তুলবেন। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তাদের আসন বদলে দেওয়ার দাবি জানাবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবদের বাড়িতে যখন বিদ্রোহী এমপিদের বৈঠক চলছে, সেই সময়ই লোকসভার স্পিকারের বাড়িতে যান মমতাপন্থী তৃণমূলের দুই এমপি— লোকসভার কীর্তি আজদ এবং রাজ্যসভার এমপি সাগরিকা ঘোষ।
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের দুই এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি তুলে দেন। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক তিন পাতার ওই চিঠিতে লেখেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল একটিই।”
তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়, স্পিকারের কাছে সেই আর্জিও জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
মনে করা হচ্ছে, তার পরেই কৌশল বদলে ত্রিপুরার দলে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুদীপ-কাকলিরা।
-এমএমএস