আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপসাগরে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার (১২ জুন) আমেরিকার কূটনীতিককে তলব করেছিল ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহণ এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদ করে শুক্রবার রুবিওকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘জবাব’ এল ওয়াশিংটন থেকে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট শনিবার বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী কাজ করছে। সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনেই চলতে হবে।
রুবিওর সঙ্গে কথা বলার পর শুক্রবার জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু রুবিওকে উদ্ধৃত করে পিগট শনিবার স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, মার্কিন অবরোধের লঙ্ঘন এবং ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহণ বরদাস্ত করা হবে না।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন থেকে ওমান উপসাগরে তিনটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজের উপরে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মাউন্ট সেটবেলো জাহাজে ছিলেন ২৮ জন নাবিক।
তাদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়, ২ জন পাকিস্তানি, ১ জন রুশ এবং ১ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
মার্কিন বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন ভারতীয় নাবিক। অন্য জাহাজ এমটি মারিভেক্সে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল।
এর পরেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল ভারতে। সরব হয় বিরোধীরা। গত বুধবার মার্কিন কূটনীতিক জেসনকে ডেকে পাঠায় ভারত। ভারত জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে স্বাধীন, বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব তা করা দরকার।
তার পরেও হরমুজের কাছে একটি ভারতীয় নাবিকচালিত জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকার বাহিনী। মাউন্ট জলবীর নামে ওই পণ্যবাহী জাহাজ থেকে অন্তত ২০ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আমেরিকা বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, ওই জাহাজ বেআইনি ভাবে ইরান থেকে তেল পরিবহণ করছিল। নিষেধ গ্রাহ্য করেনি। তাই জাহাজের ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
তার পর শুক্রবার আবার মার্কিন কূটনীতিক জেসনকে ডেকে পাঠিয়েছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে রুবিওকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন জয়শঙ্কর।
-এমএমএস