আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রোববার চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও তা নাকচ করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার ইরানি।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই চলাচল নিশ্চিত হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও চুক্তি সইয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।
এর মধ্যেই ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। রাজধানী তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের অনেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করেন।
এদিকে কিছু অনলাইন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ছবি বহন করা হয়েছে।
অনেকের মতে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর প্রভাব এবং সমর্থন বেড়েছে। জনগণের একটা বড় অংশ একজোট হয়েছে। তারাই সমঝোতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তবে আমেরিকার হামলায় গত কয়েক মাসে ইরানের সামরিক ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। সমঝোতার ক্ষেত্রে সে দিকটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে আরাঘচিদের।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা ও পারস্পরিক পাল্টা অবস্থানের কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এমআর