আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে।
শনিবার (১১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি আগামীকাল রোববার স্বাক্ষরিত হবে না। তবে তিনি আগামী দিনগুলোতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ স্মারকলিপিটি নিয়ে কাজ চলছে, তার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ শেষ করা এবং এই পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে; যদিও তা আগামীকাল হবে না, তবে আগামী দিনগুলোতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অপর পক্ষের অস্থিতিশীলতার কারণে এই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্যের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
এরআগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে একটি ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, যার প্রস্তুতি পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি শান্তি চুক্তির আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কাছাকাছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, পাকিস্তান এর পরপরই শান্তি চুক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার পরে আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে’।
শান্তি আলোচনার সফল অগ্রগতির জন্য উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলোচনা চলাকালীন তাদের অব্যাহত অঙ্গীকারের জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং এই অঞ্চলে আমাদের ভাইদের সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই’।
এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শেহবাজ শরিফ।
সূত্র: আনাদোলু, আলজাজিরা
এমএইচআর