আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১৮ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন বা ১৮ লাখ ৭৭ হাজার কোটি রুপির (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বা ৬ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার) বাজেট প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান সরকার।
শুক্রবার (১২ জুন) ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে (সংসদ) নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টার দুই ঘণ্টা পর শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে দেশটির অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই বাজেট পেশ করেন।
শেহবাজ শরীফের সরকারের এবারের বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থনীতি ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং গড় মুদ্রাস্ফীতি ৮.২ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩.৬ শতাংশ হবে এবং প্রাথমিক উদ্বৃত্ত হবে ২ শতাংশ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কর রাজস্ব ১৫ দশমিক ২৬৪ ট্রিলিয়ন রুপি অনুমান করা হয়েছে, যা বিদায়ী বছরের ১২ দশমিক ৯৮৩ ট্রিলিয়ন রুপির চেয়ে ১৭.৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রদেশগুলো কেন্দ্রীয় রাজস্বে ৮ দশমিক ৮৪৮ ট্রিলিয়ন রুপি অবদান রাখবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজেটের সিংহভাগ- প্রায় ৭.৮২ ট্রিলিয়ন রুপি রাখা হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ এবং আসল পরিশোধে জন্য।
অন্যদিকে বিগত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে ৩ ট্রিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে।
অনান্য খাতের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাবদ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুপি, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ৮৫০ বিলিয়ন রুপি, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৪০৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন রুপি, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ ১৭৯ বিলিয়ন রুপি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন রুপি, শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ৭৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি, তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন ও টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৭০ বিলিয়ন রুপি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন রুপি।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে ১ দশমিক ১২৬ ট্রিলিয়ন রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ৬৫ শতাংশ ব্যয় হবে অবকাঠামো নির্মাণে।
এদিকে শেহবাজ সরকারের এই বাজেটের তীব্র সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল- পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বাজেট পেশ করার সময় পিটিআই সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টে তীব্র হট্টগোল ও ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এই বাজেটকে সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তৈরি বলে আখ্যা দিয়েছে পিটিআই।
দলটি দাবি করেছে, ১৫ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন রুপির রাজস্ব আদায় এবং ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। দেশটির কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড (এফবিআর) এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ওপর আরও পরোক্ষ কর চাপানো হবে।
সূত্র: ডন, রয়টার্স
এমএইচআর