আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ঢাকায় পৌঁছালেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। প্রণয় ভার্মা এরই মধ্যে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদান করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কলকাতা থেকে প্রথমে বনগাঁয় পেট্রাপোল সীমান্তে যান দীনেশ ত্রিবেদী। সেখান থেকে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তে পাসপোর্ট ভিসা সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদী। এসময় ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের উপ হাইকমিশনার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরে বেনাপোল থেকে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
তবে তার সড়কপথে বাংলাদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ এমন এক সময় দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিলেন যখন দুই দেশের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর বেনাপোল সীমান্তে নথিপত্র দেখিয়ে বাংলাদেশে পা রাখার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মনে করছেন— কীভাবে বৈধ উপায়ে এক দেশের নাগরিকের আর এক দেশে প্রবেশ করতে হয় সে ব্যাপারে বার্তা দিলেন নতুন হাইকমিশনার।
অবশ্য কোনও কোনও মহল মনে করছে, সড়ক পথ বেছে নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বিস্তীর্ণ এলাকা ভ্রমণ করে ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশের প্রতি তার আন্তরিকতা ও আকর্ষণ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি দেশটিকে ভালো করে চিনে নিতে চান।
এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনারদের মধ্যে বিক্রম দোরাইস্বামী সড়কপথে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। তবে তখন করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমান যাত্রা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এখন তেমন কোন পরিস্থিতি নেই। তারপরও দীনেশ ত্রিবেদীর বিমানে সরাসরি ঢাকায় না গিয়ে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী বলেই অনেকে মনে করছেন।
এদিকে বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি, ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ একই বাতাস একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করবো।’
তিনি বলেন, ‘শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাইবোন। ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা থাকলে সব সমস্যার সমাধানই সম্ভব। যারা আমাদের ভাইবোন ও মা- তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার।
৭৫ বছর বয়সি দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকারের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
সূত্র: দ্য ওয়াল
এমএইচআর