images

আন্তর্জাতিক

পাঁচ মাসে স্পেন পৌঁছানোর চেষ্টায় প্রাণ গেছে ১৩০০ অভিবাসীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দেশ স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় আটলান্টিক সাগরে এক হাজার ৩০০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ এনজিও কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস। মৃতের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় থেকে কম হলেও অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, এর পিছনে আরো একটা বাস্তবতা লুকিয়ে রয়েছে।

কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস এনজিও জানিয়েছে, চলতি বছর এখনো পর্যন্ত স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এক হাজার ৩১৭ জন মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যে ২৭টি নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করেছিল এবং সেগুলোর কোনো খোঁজ মিলছে না। ফলে সেই নৌকার আরোহীদেরও নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ 

২০২৫ সালে এই রুটে স্পেনের দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মোট তিন হাজার ৯০ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার কথা জানায় এনজিওটি। ২০২৪ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের পথে এই অভিবাসন রুটে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল।

কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসের মৃতের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য স্পেনের কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল তথ্যের চেয়ে বেশি। মৃতদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া লোকদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কথা বলে তথ্য জানিয়েছে এনজিওটি। তাদের হিসাবের মধ্যে নিশ্চিত এবং অনুমান করা হচ্ছে, এমন দুই রকমের মৃতের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এনজিওটির ধারণা, কোনো নির্দিষ্ট বছরের জন্য তারা যে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করে। বাস্তবে সংখ্যাটা সম্ভবত অনেক বেশি, কারণ অনেক ছোটো অভিবাসী নৌকা রাডার সিস্টেমে ধরা পড়ার আগেই নিখোঁজ হয় বা তলিয়ে যায়।

মৃত্যু কমলেও বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে স্পেনের এই দ্বীপপুঞ্জে গত দশ বছরে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপজ্জনক অভিবাসন রুটে মৃতের সংখ্যা সবথেকে বেশি।

২০২৫ সালে স্পেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় অনিয়মিত পথে স্পেনে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ৪০% কমেছে।

অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, এটা সম্ভব হয়েছে মৌরিতানিয়া এবং মরক্কোর মতো দেশগুলো ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা আটক করার মতো ঘটনা এবং বাধা দেওয়ার জন্য। স্পেনের সরকারের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় সমুদ্রে তাদের বাহিনী নিয়ে নজরদারি এবং নৌকা আটকানোর মতো ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর জন্য আরও দীর্ঘ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দিচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ এই দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর জন্য বেশ কয়েকটি অভিবাসী নৌকা আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের গিনি থেকে যাত্রা করার চেষ্টা করে। প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত গিনি।

কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাওয়াকে স্বাগত জানালেও তারা জোর দিয়েছে, ‘স্পেনে অভিবাসন রুটে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রভাব, যা উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলে।"

এছাড়া এনজিওটি উল্লেখ করেছে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী পশ্চিম আফ্রিকার অনাথ শিশু, ফলে মৃতদের বেশিরভাগই একেবারে অল্পবয়সি।

ক্যানারি সফরে মনোবল জুগিয়েছেন পোপ

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে পোপ লিও চতুর্দশের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সফরের পর। অভিবাসী ও শরণার্থীদের অসহায়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তার এই সফর। অভিবাসনকে পোপ এমন একটি ইস্যু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানায়।’

পূর্বসূরি প্রথম ফ্রান্সিসের (এক) মতো, অভিবাসনকে প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন তিনিও। তার স্পেন সফর শুরু হয়েছে গত সপ্তাহান্তে খ্রিস্টোৎসব কর্পাস ক্রিস্টির সময়। এই উৎসব গৃহহীন, বাস্তুহারা ও নির্যাতিত লোকদের কষ্টকে মনে রাখার।

স্পেনের সাধারণ নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে এই সফর করেছেন পোপ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের সরকারের ইতিমধ্যে দেশটিতে বৃহৎ অভিবাসন নিয়মিতকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় স্পেন জুড়ে পাঁচ লাখের বেশি অভিবাসী নিয়মিত হিসাবে মর্যাদা পাবেন। ফলে তারা অস্থায়ীভাবে চাকরি বাজার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্পূর্ণ সুযোগ পাবেন।

সূত্র: ‍ইনফোমাইগ্রেন্টস


এমএইচআর