আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে আরও ধস নামল তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে। গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ দিলেন উত্তরবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রকাশ চিক বরাইক। চলতি সপ্তাহেই তৃণমূলের আরও দুই রাজ্যসভার সাংসদ- সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এবার সেই দলেই নাম লেখালেন প্রকাশ। এতে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১০ জনে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দেশের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রকাশ।
তৃণমূলের তরুণ প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে প্রকাশ চিক বরাইককে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই দেখা হত। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই তার পরিচিতি রাজনৈতিক মহলে। ২০২৩ সালে তাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থীও করা হয়েছিল তাকে। যদিও সেই নির্বাচনে জয় পাননি তিনি।
উত্তরবঙ্গে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে প্রকাশ চিক বরাইককে সামনে আনতে চেয়েছিল তৃণমূল। এমনকি চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও দলীয় মহলে আলোচিত হয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে তার আকস্মিক পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে কেন তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়লেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ নানা সম্ভাবনার কথা আলোচনা করলেও প্রকাশ চিক বরাইক নিজে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
প্রকাশের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই জল্পনা আরও বেড়েছে। তিনি কি শুধুমাত্র সাংসদ পদ ছেড়েছেন, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছেন - তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনও সরকারি বা দলীয় বক্তব্য সামনে আসেনি। ফলে প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগ ঘিরে রহস্য আপাতত থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনে তার অবস্থান স্পষ্ট হলে তবেই বোঝা যাবে এই পদত্যাগের নেপথ্যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নাকি অন্য কোনও কারণ কাজ করেছে। আপাতত তার নীরবতাই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল
এমএইচআর