images

আন্তর্জাতিক

খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে ‘চরবৃত্তি’ ইসরায়েলের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

দখলদার ইসরায়েলিরা যে কতটা জঘন্য তা উঠে এসেছে মার্কিন সেনাসদর দপ্তর পেন্টাগনের এক গোপন প্রতিবেদনে।

বন্ধুর বিরুদ্ধেই ‘চরবৃত্তি’! মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে ইসরায়েলের গোয়েন্দাগিরি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। 

এমনই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। ওই প্রতিবেদন অুনযায়ী, সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন যে, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদ। 

আর সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে। বন্ধু হয়েই বন্ধুর ঘরে ‘সিঁদ’ কাটার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েল? এই প্রশ্নও জোরালো হতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই।

এনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার গতিবিধির উপরে ক্রমাগত নজর রাখছে মোসাদ বাহিনী। 

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে কী ধরনের হালচাল, তা জানতেই ইসরায়েল ট্রাম্পের ঘরে ‘কান পাতা’ শুরু করেছে বলে সন্দেহ মার্কিন গোয়েন্দাদের।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআইএ তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, শুধু রক্ত-মাংসের গোয়েন্দা নয়, ‘কান পাততে’ ইসরায়েল প্রযুক্তিরও সাহায্য নিচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিকে ডিআইএ ‘অত্যন্ত ভয়ানক’ বলে উল্লেখ করেছে।

এই তথ্য ঘিরে যখন মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে শোরগোল শুরু হয়েছে, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। 

পাল্টা তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল কখনওই মার্কিন প্রশাসনের অন্দরের খবর নেয় না বা কোনও দিন নেওয়ার চেষ্টাও করেনি। 

বরং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সঙ্কটে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। শুধু তা-ই নয়, ইসরায়েল অন্যের ‘ঘরে’ উঁকি না মেরে নিজের সমস্যা মেটাতেই বেশি নজর দেয় বলেও দাবি ওই মুখপাত্রের।

শুধু ইসরায়েলি দূতাবাসই নয়, হোয়াইট হাউসও এই ধরনের রিপোর্টকে খণ্ডন করেছে। তাদের দাবি, এই ধরনের রিপোর্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। 

যদিও পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি বা প্রতিক্রিয়াও দেয়নি। ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর দফতর থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। 

ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে যখন লেবানন হামলা চালানো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটা ‘মতবিরোধ’ প্রকাশ্যে এসেছে। 

ইরানের সঙ্গে যখন শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা, সেই পরিস্থিতিতে লেবাননে লাগাতার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। 

তাদের এই ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশও করেন ট্রাম্প। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহুকে ভর্ৎসনাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

ইরান যুদ্ধ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে এই ‘মতবিরোধ’ যখন প্রকাশ্যে, তার মধ্যেই ইসরায়েলের ‘চরবৃত্তির’ তথ্য যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে আমেরিকাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, ইরান নিয়ে কী কী পদক্ষেপ করা হতে পারে, তা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান চলছে। 

তবে অন্য একটি সূত্রের আবার দাবি, ইসরায়েলে মার্কিন প্রতিনিধিরা গেলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তথ্য আদানপ্রদানেও কিছুটা হলেও সতর্কতার সঙ্গে রাশ টানা হতে পারে।

-এমএমএস