আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে বিজেপি সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, নিজের গদি বাঁচাতে মোদি জরুরি অবস্থার মতো কোনও পন্থাও নিতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই কংগ্রেস নেতা।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী এসব কথা বলেন।
দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘দেশে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে একটা সংঘবদ্ধ ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি কুক্ষিগত করে রেখেছেন বলে মনে করেন, সেই নির্বাচন কমিশনারের অফিস থেকে আমার কাছে মেসেজ আসে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থার মাথারা আমাকে নিয়মিত বার্তা পাঠাচ্ছেন।’
এরপরই রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, ‘ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাদের সন্তানদের সম্পর্কে একের পর এক তথ্য আমার কাছে আসছে। এটি একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতার ইঙ্গিত।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে রাহুল বলেন, “এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সুনামি ধেয়ে আসছে, যা থামানোর সাধ্য কারও নেই। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি কর্তৃক আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতা মোকাবিলার লক্ষ্যে ভারতের ‘শক অ্যাবজরবার’ বা রক্ষাকবচগুলো ধ্বংস করে ফেলা। ফলে পণ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের ক্ষোভ তৈরি হবে, যা সামাল দিতে সরকার দেশে জরুরি অবস্থার মতো কড়া পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে।”
এই বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ‘মোদি ভয়ংকর অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, বছরের পর বছর ধরে যে সিস্টেম তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সেটা এবার ভেঙে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জনরোষ থেকে বাঁচতে জরুরি অবস্থার মতো কিছু কার্যকর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আমার হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আর একবছরও প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।’
প্রসঙ্গত, ভারতের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায়, যদিও অর্থনৈতিক সংকটও ছিল।
তবে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সম্প্রতি দাবি করে আসছে নরেন্দ্র মোদি লিখিত নির্দেশিকা জারি না হলেও জরুরি অবস্থায় বহাল আছে দেশে। নতুন করে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য সেই দাবিরই প্রতিফলন।
এদিকে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)। দলটির নেতারা তার এই বক্তব্যকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং রাহুল গান্ধীকে ‘প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচারের নেতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এমএইচআর