images

আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় ঘুষ-চাঁদাবাজির অভিযোগে মন্ত্রী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

ঘুষ ও পরিকল্পিত চাঁদাবাজির অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন ও সংশোধনবিষয়ক উপমন্ত্রী সিলমি করিমকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (কেপিকে)। এ নিয়ে গত দুই দিনে ইন্দোনেশিয়ায় উচ্চপদস্থ দুই সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে আটকের মুখে পড়লেন।

বৃহস্পতিবার কেপিকে প্রধান সেত্যো বুদিয়ান্তো  সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশিদের অবস্থান বা স্টে পারমিট ইস্যু করার ক্ষেত্রে একটি ‘পরিকল্পিত’ চাঁদাবাজি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে উপ-অভিবাসন মন্ত্রী সিলমি করিম এবং আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত থেকেই সিলমি করিমকে কেপিকে কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতির ঘটনাগুলো ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঘটেছে। ওই সময় সিলমি করিম সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর অধীনে অভিবাসন বিষয়ক মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো দুর্নীতি নির্মূল এবং অবৈধ প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ বন্ধের শপথ নিয়েছিলেন।

একদিন আগেই দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় (এজিও) দাদান হিন্দায়ান নামের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। দাদান দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বিশেষ 'বিনামূল্যে খাবার প্রকল্প' তদারককারী সংস্থার সাবেক প্রধান ছিলেন। তবে এই দুই দুর্নীতি মামলার মধ্যে সরাসরি কোনো সংযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার পৃথক এক রায়ে দেশটির একটি আদালত সাবেক উপ-শ্রমমন্ত্রী ইমানুয়েল ইবেনেজারকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিরাপত্তা পারমিট সংক্রান্ত দুর্নীতির দায়ে গত বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রাবোও ক্যাবিনেটের তিনিই প্রথম সদস্য যিনি ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলেন। 

এছাড়া গত এপ্রিলে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন দেশটির প্রধান ন্যায়পাল (ওম্বুডসম্যান)।

মূলত, এই ঘটনা প্রবাহ ইন্দোনেশিয়ায় চলমান দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অভিযানেরই একটি অংশ। ২০২৪ সালে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ এবং দুর্নীতি নির্মূল করাসহ ইন্দোনেশিয়ার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এদিকে পরপর শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির স্টেট সেক্রেটারিয়েট মন্ত্রী প্রসেত্যো হাদি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমন সংস্থা ও দেশের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর