আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে আজ ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে প্ররোচিত করেছিলেন এমন দাবিও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না, তেহরানের হাত এই অস্ত্র গেলে প্রথম আঘাতটি ইসরায়েলের ওপরই আসত, যা তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিত। সেই কারণেই তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
নেতানিয়াহু তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্ররোচিত করেছেন কি না— জানতে চাইলে এ ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমাকে যুদ্ধে জড়িয়েছেন? আমিই এ যুদ্ধ শুরু করেছি। কারণ আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দিতে পারি না।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবের অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের বক্তব্য মূলত তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাছ থেকে আসছে, যারা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখে না এবং তাদের ভুল নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য আজ এই পরিস্থিতিতে এসেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার উদ্বেগ নতুন নয়। প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা কালেই তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সেই সময় কঠোর অবস্থান না নিলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘বিষয়টি ইসরায়েলের ওপরও বর্তায়। একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলি, যদি আমি না থাকতাম তাহলে ইসরায়েলের এখন কোনো অস্তিত্বই থাকত না।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন, প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে এবং সামরিক সুরক্ষা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলকে টিকিয়ে রেখেছে। সুতরাং, ইসরায়েলের উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছাকে প্রধান্য দেওয়া।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর