আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ভারতে দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
সোমবার (১ জুন) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’-এর ১২ নম্বর বিধিটি সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি ভারতে থাকতে চাইলে বিদেশিদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা এবং হাসপাতালগুলোর রিপোর্টিং ব্যবস্থায়ও সংশোধন আনা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৮০ দিন বা তার কম মেয়াদের ভিসাধারীদের ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আগের নিয়মে, যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা ভারতে আগমনের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারতেন।
এছাড়াও যাদের ভিসার মোট মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হলেও একটানা অবস্থানের অনুমোদিত সময়সীমা ১৮০ দিন। তারা যদি একটানা বা একটি ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চান, তাহলে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশিদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত বেশি দিন থাকার অনুমতি কেবল বিশেষ বা ‘জরুরি পরিস্থিতিতে’ বিবেচনা করা হবে, যার ফলে অতিরিক্ত সময় থাকার অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক সীমিত হয়ে আসবে।
এদিকে বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের বিষয়ে আনা হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আগে ভারতে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের একজন বা উভয়েই বিদেশি হলে জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি অনলাইন পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কর্মকর্তাকে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল।
নতুন বিধানে বলা হয়েছে, যদি বাবা বা মা একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং সন্তান ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখে, তাহলে জন্মের পর এ ধরনের বাধ্যতামূলক রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজন হবে না। তবে পরবর্তীতে যদি ওই সন্তান অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তাহলে বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
অন্যদিকে হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও আবাসিক চিকিৎসা সুবিধা থাকা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে রোগীরা চিকিৎসার পাশাপাশি অবস্থান করতে পারেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টিং ও তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধানও সংশোধন করা হয়েছে।
ভারত সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের তথ্য আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ওপর নজরদারি জোরদার করা। একই সঙ্গে বিদেশিদের অবস্থান ও ভিসা শর্ত পালনের বিষয়টি আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এমএইচআর