আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম
ইরানের হুঁশিয়ারির পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইসরায়েল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে ইরান সতর্ক করে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নতুন করে হামলা চালানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ইরানের চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতামূলক যোগাযোগের কারণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আপাতত বৈরুতে হামলা থেকে পিছু হটেছেন।
ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যারা পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গেও একটি সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা সম্মত হয়েছে যে সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ থাকবে। ইসরায়েল তাদের ওপর হামলা করবে না এবং তারাও ইসরায়েলের ওপর হামলা করবে না।’
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন। এতে লেবাননে আরেক দফা বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়েছে। যেখানে এরই মধ্যে এই সংঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইসরায়েল ও তার মিত্রদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তারা বলেন, লেবাননে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানায়, যদি ইসরায়েল দক্ষিণ বৈরুতে বোমা হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাংশে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
আরও পড়ুন: আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস: উদযাপনের মঞ্চে শুধুই ‘ট্রাম্প শো’
এক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। যদি তারা এই হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে উত্তরাঞ্চল ও সামরিক বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা ক্ষতির শিকার না হন।’
ইরানের দাবি, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তার মধ্যে শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের বাড়তে থাকা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার আবারও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে সেটিকে পুরো চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফও একই কথা বলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো — এগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।’
এআরএম