images

আন্তর্জাতিক

আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস: উদযাপনের মঞ্চে শুধুই ‘ট্রাম্প শো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট সিরিজ থেকে একের পর এক সঙ্গীতশিল্পী ও ব্যান্ড দল নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। অনেকে আবার দাবি করেছেন, তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কখনোই সম্মতি দেননি।

তবে এতে মোটেও দমে যাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এদের কাউকেই তার প্রয়োজন নেই। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি এমন তথাকথিত 'শিল্পী'দের চাই না যারা অনেক বেশি টাকা নেয়, আবার খুশিও থাকে না। আমি কেবল সুখী, বুদ্ধিমান, সফল এবং কীভাবে জিততে হয় তা জানা মানুষের পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে চাই।"

সংগীতশিল্পীদের এই বয়কটের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে পরিকল্পিত ১৬ দিনব্যাপী ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ নামের উদযাপনে যেন তাকেই মূল আকর্ষণ বা প্রধান চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শিল্পীদের পরিবর্তে এই অনুষ্ঠানটি ট্রাম্পের ভাষায় একটি ‘বিশাল মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন 
র‍্যালি’তে পরিণত হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এটি প্রমাণ করে যে, প্রেসিডেন্ট নিজেকে সরাসরি আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে সম্পৃক্ত করছেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রায়ই বলে আসছেন, চার বছরের বিরতির কারণে তিনি এখন এমন এক ঐতিহাসিক সময়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন যখন দেশটিতে বিশ্বকাপ ফুটবল, লস অ্যাঞ্জেলেসে ২০২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এবং আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের মতো বড় বড় ঘটনা ঘটছে। দেশাত্মবোধে ভরপুর এই লাল-সাদা-নীল রঙের স্বাধীনতা দিবসের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনটির প্রতি প্রেসিডেন্টের বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

আমেরিকার এই ২৫০তম বার্ষিকী তদারকির জন্য এক দশক আগে মার্কিন কংগ্রেস একটি অফিশিয়াল কমিশন গঠন করলেও ট্রাম্প-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো নিজস্ব অর্থায়নে 'ফ্রিডম ২৫০' নামে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কমিটি গঠন করেছে। তাদের আয়োজনের তালিকায় রয়েছে ন্যাশনাল মলের স্টেট ফেয়ার, হোয়াইট হাউসের ভেতরে একটি ইউএফসি ফাইট বা মারামারি প্রতিযোগিতা, ওরাল্যান্ডোতে শারীরিক কসরত প্রতিযোগিতা, আগস্ট মাসে ওয়াশিংটনের রাস্তায় গ্র্যান্ড প্রিক্স রেস এবং আগামী ৪ জুলাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী। ট্রাম্প প্রায়ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে এসবের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পেও হাত দিয়েছেন ট্রাম্প। লাফায়েত পার্কসহ শহরের এক ডজনেরও বেশি ফোয়ারা মেরামত করা হচ্ছে। লিংকন মেমোরিয়াল এবং ওয়াশিংটন মনুমেন্টের মাঝখানের বিখ্যাত রিফ্লেক্টিং পুলটির সংস্কার কাজ চলছে, যা নিয়ে অবশ্য সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। 

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ

এছাড়া মেমোরিয়াল ব্রিজের কাছে চারটি ব্রোঞ্জের ঘোড়ার মূর্তিতে ২৩.৭৫ ক্যারেট সোনার প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে এবং পোটোম্যাক নদীর ওপর একটি ২৫০ ফুট উঁচু তোরণ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পেশায় সাবেক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প গত সপ্তাহের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রায় ২০ মিনিট কেবল এই নির্মাণকাজ নিয়েই কথা বলেন এবং জানান, ওয়াশিংটন ডিসিকে এখন খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।

শুধু সৌন্দর্যবর্ধনই নয়, ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঐতিহাসিক উৎসবের সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জড়িয়ে ফেলার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত মার্চ মাসে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার অনুমোদন দিয়েছে। এমনকি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্পের মুখচ্ছবি সংবলিত একটি বিশেষ ২৫০ ডলারের নোট তৈরির কাজ চলছে, যদিও জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় বা নোটে বসাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "নিজেকে নিয়ে মাতামাতি বন্ধ করুন। আগামী ৪ঠা জুলাইয়ের বার্ষিকী কোনো স্বঘোষিত রাজার জন্য নয়, এটি আমেরিকার পথচলাকে উদযাপনের দিন।" ডেমোক্র্যাটদের এই সমালোচনাকে ট্রাম্প প্রশাসন 'দেশপ্রেমহীনতা' বলে উড়িয়ে দিলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই উদযাপনের কারণে পুরো জাতি এখন আরও বেশি বিভক্ত হয়ে পড়ছে।

সূত্র: বিবিসি 

এজেড