আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলোমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করছে ইরান। লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দেশটির আরও গভীরে ইসরালের হামলার প্রতিবাদ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান তীব্র হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করছে তেহরান। এছাড়াও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাতেও ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে, এর ফলে ইরানি আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে।
তাসনিম আরও জানায়, আলোচনা পুনরায় শুরু করার পূর্বশর্ত হিসেবে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে বন্ধ এবং দখল করা এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এক এক্স বার্তা তিনি বলেন, ‘একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানেই সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর ফলে যেকোনো পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগের উপায় হিসেবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালি অবরোধসহ অন্যান্য রণাঙ্গন সক্রিয় করার মতো পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করছে তেহরান।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের খসড়া চুক্তি ও বার্তা আদান-প্রদান চলছিল। তবে আলোচনা স্থগিতের বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে তাসনিমের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় থাকা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লেবাননের আরও গভীরে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৯০০ বছরের প্রাচীন ‘বিউফোর্ট দুর্গ’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। স্থানীয়ভাবে এটি ‘কালাত আল-শাকিফ’ নামেও পরিচিত।
দূর্গটি দখলের পর রোববার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের নীতির একটি নিষ্পত্তিমূলক স্টেজ বা ধাপ এবং নিষ্পত্তিমূলক পরিবর্তন। আমরা ভয়ের দেয়াল ভেঙে ফেলেছি। আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি, আমরা সব ফ্রন্ট যেমন: সিরিয়া, গাজা এবং লেবাননে অভিযান চালাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, তার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা জায়গাগুলোর ওপর দখল আরো জোরদার করা এবং প্রসারিত করা। এর অংশ হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীকে লেবাননের আরও গভীরে (জাহরানি নদীর দিকে) অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২ মার্চ ইসরায়েলি এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। ওই হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েল পুরো লেবানন জুড়ে বিমান হামলা এবং স্থল হামলা শুরু করে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবানন কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতি হলেও এখনো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু
এমএইচআর