আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ মে ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদ ও রাজধানী কাবুলের মধ্যবর্তী মহাসড়কে পাকিস্তান থেকে ফেরা আফগান শরণার্থীদের বহনকারী একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫:৩০ মিনিটে দেশাটির পূর্বাঞ্চলীয় লাঘমান প্রদেশের কারঘাই জেলার সুরখাকান মোড়ের কাছে এই দুঘর্টনা ঘটে।
প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক আমিনুল্লাহ শরীফ বলেছেন, চলন্ত অবস্থায় চালক ঘুমিয়ে পড়লে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়।
লাঘমান প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আব্দুল মালিক নিয়াজাইয়ের বলেন, ট্রাকটিতে পাকিস্তান থেকে ফেরা বেশ কয়েকটি আফগান পরিবার ও তাদের গৃহস্থালীর জিনিসপত্র বোঝাই ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন। পাকিস্তনি থেকে ফিরে পরিবারগুলো পূর্ব কুনার প্রদেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছিল এবং রাজধানী কাবুলের দিকে যাচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, নিহত ১৮ জনের মধ্যে ১০ শিশু, পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। জরুরি পরিষেবা দ্রুত আহতদের পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে স্থানান্তর করেছে, যেখানে বেশ কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
এদিকে, তালেবান সরকারের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ৭ লাখ ৩০ হাজার আফগানি (১০ হাজার মার্কিন ডলার) জরুরি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পাকিস্তানে বসবাসরত আফগান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি। ফলে অনেক আফগান পরিবার পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাদের অনেকেই ট্রাকে করে মালপত্র নিয়ে দেশে ফিরে গেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৪০০ জন আফগান নাগরিক পাকিস্তান থেকে ফিরেছেন।
অন্যদিকে দশকের পর দশক সংঘাতের কারণে সড়ক অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা, বেপরোয়া যানচালনা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে আফগানিস্তানে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছর আগস্টেও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ইরান থেকে ফেরা আফগান অভিবাসীবাহী একটি বাসের সঙ্গে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে নিহত হন ৭৮ জন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন শিশুও ছিল।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর