images

আন্তর্জাতিক

চুক্তি না হলে ইরানে ফের হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

শনিবার (৩০ মে) সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ তিনি এই বার্তা দেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনীতিকরা যখন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হেগসেথ বলেন, ‘প্রয়োজনে পুনরায় হামলা শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে... আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সমর্থ।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অস্ত্রের মজুত তার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত, সেখানেও (মধ্যপ্রাচ্য) এবং বিশ্বজুড়েও; তাই আমরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছি।’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একই সাথে দুটি কাজ করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে অত্যন্ত শক্তিশালী করছি যাতে আমরা খুব শিগগিরই দ্বিগুণ, তিনগুণ বা চারগুণ বেশি গোলাবারুদ তৈরি করতে পারি, যার ফলে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত অপারেশনাল পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে অর্থায়ন পায়।’

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ‘ধৈর্য’ ধরছেন এবং তিনি এমন একটি 'চমৎকার চুক্তি' করতে চান যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

এদিকে শুক্রবার ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। ওই প্রস্তাবে গত এপ্রিলের শুরুতে নেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন চুক্তিতেই সম্মত হবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।’

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উভয় দিকেই অবাধ নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে এবং সেখানে পাতা সব মাইন অপসারণ ও ধ্বংস করতে হবে।

তবে ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ রয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সূত্র: রয়টার্স 

এমএইচআর