images

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে যেসব শর্ত দিলেন ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ মে ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হোয়াইট হাউসে বৈঠক ডেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর আগে সম্ভাব্য চুক্তিতে নিজের শর্তগুলো তুলে ধরেছেন তিনি। 

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে অবশ্যই এই মর্মে সম্মত হতে হবে যে, তারা কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা রাখবে না। হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উভয় দিকে অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো টোল ছাড়াই খুলে দিতে হবে। যদি সেখানে কোনো মাইন (বোমা) থেকে থাকে, তবে তা নিষ্ক্রিয় করতে হবে (যদিও আমরা আমাদের শক্তিশালী ডুবো মাইন সুইপার দিয়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে এ ধরনের অসংখ্য মাইন অপসারণ করেছি। ইরান অবশিষ্ট যেকোনো মাইনের অবিলম্বে অপসারণ অথবা বিস্ফোরণের কাজ সম্পন্ন করবে, যার সংখ্যা খুব বেশি হবে না!)।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আশ্চর্যজনক ও অভূতপূর্ব নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণারিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো, যা এখন তুলে নেওয়া হবে, তারা স্বদেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে! আপনাদের স্ত্রী, স্বামী, পিতামাতা এবং পরিবারের সকলকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান, আমি আপনাদের প্রিয় রাষ্ট্রপতি! 

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “তাদের সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান, যা কখনও কখনও ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ নামে পরিচিত, এবং যা ১১ মাস আগে আমাদের শক্তিশালী বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় কার্যত ধসে পড়া পর্বতমালার মাটির গভীরে চাপা পড়ে আছে, তা যুক্তরাষ্ট্র (এ বিষয়ে সবাই একমত যে, চীন ছাড়া একমাত্র এই কাজটি করার যান্ত্রিক সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র!), ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতায় উত্তোলন করে ধ্বংস করে ফেলবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। এর চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসব’। 

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো দাবি করেছে, ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প একটি ‘ভুয়া বিজয়’ দাবি করার চেষ্টায় খসড়া চুক্তির মূল বিষয়গুলো বিকৃত করেছেন। বিশেষ করে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে বলে ট্রাম্পের দাবি ‘মৌলিকভাবে ভিত্তিহীন’ এবং কোনো টোল ছাড়াই ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে বলে তিনি যে দাবি করেছেন, সেটিও খসড়া চুক্তিতে নেই।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ট্রাম্প খসড়া চুক্তির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ হস্তান্তর এবং লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইআর