images

আন্তর্জাতিক

তালেবানকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ মে ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তা পাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ বিষয়ে সরাসরি সহযোগিতা করবে রাশিয়া। 

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর সঙ্গে তালেবানের একটি সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি স্থল সামরিক সরঞ্জাম ও তালেবান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর নিজেদের দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতেই এমন উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কাবুল।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়াকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ। এর আগে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও সাম্প্রতিক সফরে বিষয়টি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তিতে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, নাকি ড্রোনের মতো হামলাকারী সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত আছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি তালেবান বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ও রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফর করেন ইয়াকুব মুজাহিদ। সফরের আগে তালেবান সরকারের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, এই সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি প্রতিনিধিদল আগেই মস্কো পৌঁছেছিল।

সফরকালে সের্গেই শোইগুর সঙ্গে বৈঠকে ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন, রাশিয়া এই অঞ্চল ও বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের। আমরা আশা করি এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।

২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় এলে কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া অন্যতম ছিল। শুধু তাই নয়, ২০২২ সালে তালেবান সরকারের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তিও করে মস্কো। ওই চুক্তির আওতায় আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ শুরু করে রাশিয়া।

রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে তালেবান সরকার দাবি করে আসছে, তারা বিদ্রোহী নেটওয়ার্ক দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাবুলের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়া আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে কার্যকর প্রভাব বিস্তার সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগুও সম্প্রতি বলেছেন, রাশিয়া তালেবান সরকারের সঙ্গে পুরোপুরি অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে এবং অঞ্চলটির অন্যান্য দেশকেও কাবুলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এআরএম