আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩৮ ডলার বা ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেশনের শুরুতে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।
অন্যদিকে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৪ ডলার বা ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এরআগে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেে একটি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।
তবে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি থাকার খবরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পর তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ‘হুমকি তৈরি করেছিল’ এমন চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে কুয়েতে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দরের কাছে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ভোর ৪:৫০ মিনিটে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালানো হয়।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি বাহিনীটি আরও বলেছে, ‘এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি শত্রুর জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাতে শত্রুরা বুঝতে পারে যে তাদের যেকোনো আগ্রাসন আর বিনা জবাবে থাকবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে, যার ফলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ‘যতক্ষণ একটি চুক্তি হবে বলে আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। এটি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয় কীভাবে এই সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এক বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আটকে আছে। যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসার প্রভাব চূড়ান্তভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএইআর