আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল ২৬ মে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন রিংকি চট্টোপাধ্যায় সিং নামের এক আইনজীবী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান), ৩৫৩ (ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি ছড়ানো) এবং ২৯৯ (ধর্মীয় বিশ্বাসকে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে আঘাত) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ওই আইনজীবী দাবি করেছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দুটি মন্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এর মধ্যে একটি মন্তব্য তিনি করেছিলেন ২০২৫ সালের ঈদের সময়। আর অপর মন্তব্যটি করেছিলেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলার একটি ধর্নামঞ্চ থেকে।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামলাকারী আইনজীবী রিংকি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে মমতা হিজাব পরে রেড রোডে ঈদের নামাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে হিন্দুধর্মকে ‘নোংরা ধর্ম’ বলে অভিহিত করেছিলেন।”
ওই দিন হিন্দিতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘দেখুন রামকৃষ্ণ কী বলেছেন, বিবেকানন্দ কী বলেছেন? আমি রামকৃষ্ণের ধর্ম মানি, স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম মানি। কিন্তু আমি জেনে শুনে একটা ‘গান্দা ধর্ম’ (নোংরা ধর্ম), যেটা এই জুমলা পার্টিরা বানিয়েছে, সেটা মানি না। ওটা হিন্দু ধর্ম বিরোধী।’ এনিয়ে সে সময় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গতমাসে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলায় হিন্দু ভোটারদের হুমকি দিয়ে মমতা বলেছিলেন, কোনও একটি সম্প্রদায় হিন্দুদের ওপর হামলা করলে ‘তাদের ১২টা বেজে যাবে’।
মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ওই আইনজীবী বলেন, ‘আমি যখন সাইবার শাখায় এফআইআর করতে যাই, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। আমি শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি এবং আমার অভিযোগ নথিভুক্ত না করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি উসকানি, সহিংসতায় প্ররোচনা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করলেও পরে আমার অভিযোগ গৃহীত হয় এবং ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়। আমি বিশ্বাস করি, বাকস্বাধীনতারও একটা সীমা আছে।’
এ বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়ম মেনেই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এফআইআরে যেসব বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস
এমএইআর