আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত ছাড়াও তাদের বাহিনী আরও একটি মার্কিন আরকিউ-৪ ড্রোন এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ওপরও গুলি চালিয়েছে। এতে যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশসীমা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বিমানগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। তবে ঘটনাগুলো কখন ঘটেছে তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধ ও সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে ইরানের’।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর পরেই ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হল।
এরআগে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং মাইন পেতে যাওয়ার চেষ্টা করা কিছু নৌযানকে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলাগুলো ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দিতেই’ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সংযম দেখিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হকিন্স আরো জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের কাছের একটি এলাকা। এই শহরে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থি
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপের দক্ষিণে ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ওপর এই হামলার কী প্রভাব পড়বে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আনাদোলু, আলজাজিরা
এমএইআর