আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ মে ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
বিভিন্ন দেশে মার্কিন ও ইহুদি স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এক ইরাকি নাগরিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে গুপ্তহত্যারও ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি।
আল-সাদির কাছে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাসভবনের সাথে সংযুক্ত একটি মানচিত্র ও নকশা উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি অনলাইনে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন একটি বাড়ি দেখানো হয়েছিল।
পোস্টটিতে আরবি ভাষায় ইভাঙ্কাকে হুমকি দিয়ে দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘তোমাদের প্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস কেউই তোমাদের রক্ষা করবে না, প্রতিশোধ নেওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার’।
ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক অ্যাটাশে এনতিফাধ কানবার নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, সোলেইমানির মৃত্যুর পর আল-সাদি তার সঙ্গীদের বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ইভাঙ্কাকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত’।
অন্য একটি সূত্রও নিউইয়র্ক পোস্টকে এই কথিত ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মে তুরস্কে গ্রেফতার হন আল-সাদি এবং পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। বর্তমানে তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এরমধ্যে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন ভবনে অগ্নিবোমা হামলা, কনাডার টরন্টোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে গুলিবর্ষণ এবং চলতি বছরের শুরুতে লন্ডনে দুই ইহুদিকে ছুরিকাঘাতসহ বেশ কয়েকটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্ট আরও দাবি করেছে, আল-সাদির সঙ্গে ইরাক-ভিত্তিক কাতাইব হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর যোগসূত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলিজাবেথ সুরকভ, যিনি ২০২৩ সালে বাগদাদে অপহৃত হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছিলেন- তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, অভিযুক্ত আল-সাদি কাসেম সোলেইমানির ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানির সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, যিনি সোলেইমানির মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-সাদি বাগদাদে বেড়ে ওঠেন এবং পরে তেহরানে গিয়ে আইআরজিসির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি শুরু করেন, যা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে চলাফেরা করতে এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করেছিল।
নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আল-সাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন, যেখানে তিনি মার্কিন হামলায় নিহত সোলেইমানি ও অন্যান্য ইরানি কমান্ডারদের প্রশংসা করে বার্তা পোস্ট করতেন।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইআর