images

আন্তর্জাতিক

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কাউকে দেবে না ইরান, নির্দেশ খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ মে ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে নিরাপদ সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আংশিক সম্মতি জানিয়েছিল। তবে নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে, কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর না করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। 

মঙ্গলবার দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনির এই আদেশ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান একটি দাবির বিষয়ে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হলো, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা দুজন ইরানি সূত্রের একজন বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ঐকমত্য হলো যে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশ থেকে বাইরে যাবে না।’

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতাসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে ইরান। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

মূলত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’-এর কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবারই জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। 

ইসরায়েলের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন, ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তি হয় তাহলে সেখানে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অবশ্যই থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে, হিজবুল্লাহ-হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ না করা হবে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা শেষ না করা হবে ততক্ষণ তিনি যুদ্ধ বন্ধ করবেন না।

প্রসঙ্গত, ইরান ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং দাবি করে যে এর উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ। ২০১০ সালে তেহরান ঘোষণা করে, জ্বালানি তৈরির উদ্দেশ্যে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। 

তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা- আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তখন ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কেজি (৯৭২ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম ছিল। তবে হামলার পর বর্তমানে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম টিকে আছে তা স্পষ্ট নয়।

ইউরেনিয়ামের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্তর, কারণ এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার খুব কাছাকাছি। এছাড়াও ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো অনেক সহজ এবং দ্রুততর প্রক্রিয়া। যার ফলে ইরানের এই ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

সূত্র: রয়টার্স


এমএইচআর