images

আন্তর্জাতিক

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যা মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ মে ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মাঝামাঝি এলাকায় দুটি বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, কাস্ত্রো ও আরো পাঁচজন কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ এর বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেন। এতে চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক।

বর্তমানে ৯৪ বছর বয়সী কাস্ত্রো তখন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং ওই ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এখনও কিউবার রাজনীতিতে তিনি প্রভাবশালী এবং তাকে ‘কিউবান বিপ্লবের নেতা’ হিসেবে সম্মান করা হয়।

কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে চারটি পৃথক হত্যার অভিযোগ, বিমান ধ্বংস এবং মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক কৌশল, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংসের অভিযোগ এবং চারটি পৃথক হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতরা হলেন— আর্মান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্তা, মারিও ম্যানুয়েল দে লা পেনা এবং পাবলো মোরালেস।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ল্যাটিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম লিওগ্রান্ড বলেন, ধীরে ধীরে চাপ বাড়িয়ে এমন অবস্থায় নেওয়াই কৌশল, যাতে কিউবান সরকার আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং তেলের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির জনগণের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও একটি নতুন কিউবার মধ্যে নতুন পথের প্রস্তাব দিচ্ছেন।

R2
রাউল কাস্ত্রো ও ফিদেল কাস্ত্রো

রুবিও অভিযোগ করেন, কিউবার সামরিক নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান GAESA দেশটির বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য সমস্যার জন্য দায়ী। এই প্রতিষ্ঠানটি বন্দর, জ্বালানি এবং পাঁচতারা হোটেলসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ন্ত্রণ করে।

এর জবাবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রকে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে বলেন, তারা কিউবার জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিমান ভূপাতিতের ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তার দাবি, কিউবা নিজস্ব জলসীমার মধ্যে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে।

কাস্ত্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্ল্যাঞ্চ জানান, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে তাকে আটক করা হবে কিনা তা নিশ্চিত করেননি, শুধু বলেন— তিনি স্বেচ্ছায় অথবা অন্য কোনোভাবে এখানে হাজির হবেন বলে আমরা আশা করি।

লিওগ্রান্ড মনে করেন, কিউবা আলোচনায় নতি স্বীকার না করলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে আটক করার চেষ্টা করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


এফএ