আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্মোট্রিচ নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরোয়ানার কথা জানিয়েছে আইসিসি। তবে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্মোট্রিচ তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ ঘোষণার জবাবে আমরা প্রচণ্ড প্রতিশোধ নেব।’
ইসরায়েলি এই কট্টরপন্থী নেতা আরও বলেন, শিগগিরই তিনি ‘খান আল-আহমার খালি করার একটি আদেশে স্বাক্ষর করবেন, যার মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরের এই গ্রামটি থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তর করা হবে। গ্রামটি তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাথে বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে।
আলজাজিরা বলছে, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের আদেশ, অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের স্থানান্তরের প্রতি সমর্থন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনাহারে রাখার পরিকল্পনায় ভূমিকার কারণে স্মোট্রিচের বিরুদ্ধে আইসিসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি। এর জেরে আইসিসি বেশ কয়েকজন বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি এবং অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা আইসিসির বিচারক ও প্রসিকিউটরদের অ্যাকাউন্ট ও সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কী, তাদের কাজই বা কী?
যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের অপরাধ বিচার করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) তৈরি করা হয়েছিল ২০০২ সালে। এটি সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের বা তাদের ভূখণ্ডে অন্য দেশের দ্বারা সংগঠিত অপরাধের বিচার করতে পারে। আইসিসিতে ১২৫টি রাষ্ট্র রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মতো বহু দেশ এখনও আইসিসির সদস্য হয়নি।
এদিকে আইসিসির হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকলেও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে না। আইসিসি যা করতে পারে তা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন দেশের সহায়তায় গ্রেফতার করা এবং গ্রেফতারের পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে তার কার্যালয়ে বিচারের জন্য হাজির করা।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর