আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মে ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আর কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানি ঈদ। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে গরু কেনাবেচা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সাম্প্রতিক ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকার’ পর গরু কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন মুসলিমরা। এর জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের বহু হিন্দু খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর এই ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
ঈদের আগে গরু ব্যবসায়ীদের এই সংকট প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুতই এই জট কাটতে চলেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা নিজে দেখছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। তবে পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বিস্তারিত জানাবেন।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে বিজেপি সরকারের তরফে ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ মেনে চলার জন্য একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে বলা হয়- সরকারের অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু ও মহিষ জবাই করতে পারবেন না। এছাড়া গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।
ঈদের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় আচার পালন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পশুর বিশাল বহর নিয়ে দিশেহারা গরু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে- বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদহের মতো মুসলিম প্রধান জেলাগুলোতে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তারা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেন। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী- ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো পশু কেনাবেচা বা জবাই করা যাবে না। এই আইনি জটিলতা এবং পুলিশের হয়রানির ভয়ে মুসলিম ক্রেতারা এবার হাটে এসে গরু কিনতে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। গরু বিক্রি না হওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা।
খামারিদের অভিযোগ, বছরের পর বছর গরু পালন করে কোরবানির সময় বিক্রির ওপর তারা নির্ভরশীল থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গরু বিক্রি না হলে ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, একদিকে দেশে গবাদি পশুর মাংস রফতানি থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্ষুদ্র খামারিদের নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হচ্ছে কেন। তাদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা।
তবে সোমবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই আশ্বাসের পর মনে করা হচ্ছে, উৎসবের আবেগ এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের আইনি গাইডলাইনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই শিগগিরিই একটি মধ্যপন্থা ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সূত্র: দ্য ওয়াল, টিভি৯
এমএইচআর