images

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা ও যুদ্ধবিমানের বহর মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ মে ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, যুদ্ধবিমানের একটি বহর ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও গত বছর স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে রিয়াদকে এই সামরিক সহায়তা প্রদান করে ইসলামাবাদ। 

সোমবার (১৮ মে) বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুটি সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। 

সূত্রগুলো বলেছে, যুদ্ধ করতে সক্ষম পাকিস্তানের এসব সেনাদের মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো— সৌদি আরব যদি কোনো হামলার শিকার হয় তাহলে তারা সৌদির সেনাদের সহায়তা করবে।

যদিও এই মোতায়েন বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের সরকারি গণমাধ্যম মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এসডিএমএ)  চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতাকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ঘটলে, তা উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, ওই চুক্তির মাধ্যম সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তান প্রায় ১৬টি বিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে, যার বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। পাশাপশি দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাঁচটি সূত্রের সবাই বলেছেন, বর্তমানে সৌদিতে ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে এভয় প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও চীনের তৈরি একটি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। 

তারা আরও জানিয়েছে, সরঞ্জামগুলো পাকিস্তানি কর্মীরা পরিচালনা করছেন। তবে এগুলোর খরচ বহন করছে সৌদি আরব।

দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদান এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন সংক্রান্ত নথি দেখা দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, নতুন করে এসব সেনা যাওয়ার আগেই সৌদিতে পাকিস্তানের আরও কয়েক হাজার সৈন্য ছিল। ইরান সংঘাতের সময় মোতায়েন করা সামরিক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা পালন করবেন। 

পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র বলছে, গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়ায় সৌদি বাহিনীকে দেশটির সীমান্ত সুরক্ষিত করতে সাহায্য করার জন্য ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সৈন্য মোতায়েনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

অন্য দুইজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তিতে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধজাহাজ সৌদি আরবে পৌঁছেছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর