images

আন্তর্জাতিক

ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, গোপন নথি ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ মে ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে একটি ফাঁস হওয়া গোপন কূটনৈতিক নথিতে। মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ ‘সাইফার’ নামে পরিচিত এই নথি প্রকাশ করে, যা ইমরান খানের তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ‘বিদেশী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগকে আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

সোমবার ড্রপ সাইট ‘ক্যাবল আই-০৬৭৮’ নামে মূল নথিটি প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২২ সালের ৭ মার্চ তারিখে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান। ওই বৈঠকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার বিষয়ে ইমরান খানের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইসলামাবাদকে চাপ দেয় ওয়াশিংটন। এছাড়াও আফগানিস্তানে অভিযানের জন্য মার্কিন বাহিনীকে পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ওয়াশিংটন ইমরান খানের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিল। 

কারাবন্দি ইমরান খান বারবার দাবি করেছেন, তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের বর্তমান শাসক দল— পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করেছে। 

২০২২ সালের এপ্রিলে এক বিবৃতিতে ইমরান খান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চায় ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়... এবং তাহলে পাকিস্তানের সব অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা এবং তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের জন্য পাকিস্তানের ভূমি ব্যবহার করতে না দেওয়াটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। 

সেই সময় ইমরান খান বলেছিলেন, ‘‘তারা বলছে ইমরান খান যদি অনাস্থা ভোটে হেরে যান, তাহলেই কেবল আমাদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে।’’

তবে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেই সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তৎকালীন মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, এসব অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। 

তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছি। আমরা পাকিস্তানের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এতে আমাদের সমর্থন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া যেদিন ইউক্রেন আক্রমণ করে, ঠিক সেই দিনই মস্কো সফর করেন ইমরান খান, যদিও ওয়াশিংটন আগে থেকেই ইসলামাবাদকে এই সফর বাতিল করার জন্য অনুরোধ করেছিল বলে জানা যায়। এছাড়াও রাশিয়ার আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের একটি ভোটাভুটিতেও বিরত থাকে ইসলামাবাদ, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তোলে। 

পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের মার্কিন অনুরোধ ইমরান খান প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করলে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও অবনতি হয়।

এদিকে ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৭ মার্চ পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড লু। ফাস হওয়া ক্যাবলে রেকর্ড করা ওই কথোপকথনে লু পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে জানান, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে যদি ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, তাহলে ইসলামাবাদের প্রতি ওয়াশিংটনের যাবতীয় ক্ষোভ মিটে যাবে এবং সব ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

সতর্ক করে দিয়ে লু বলেন, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান প্রবলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ওই বৈঠকের মাত্র একমাসের মাথায় ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর পরোক্ষ সমর্থনে এক অনাস্থা ভোটের মাধ্যম ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে দুইজনই কারাগারে রয়েছেন।   

অন্যদিকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ইমরানের দল পিটিআইকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশেও বাধা দেওয়া হয়।

সূত্র: এনডিটিভি 

এমএইচআর