আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ মে ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
এক বছরে প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ভারতের সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা জোয়ালা গুট্টা। হায়দরাবাদ ও চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অপরিণত শিশুদের জীবনরক্ষায় তার এই উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কন্যাসন্তান মীরার জন্মের পর থেকেই জোয়ালা লক্ষ্য করেন, তার শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মাতৃদুগ্ধ উৎপন্ন হচ্ছে। এই অতিরিক্ত দুধ নষ্ট না করে তিনি তা সংগ্রহ ও দান করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে পাম্পের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ ও বিভিন্ন মানব দুগ্ধ ব্যাংকে সরবরাহ করে আসছেন।
মাতৃত্বের প্রথম বছরে একজন মায়ের জন্য এই প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। নিয়মিত দুধ সংগ্রহ, সঠিকভাবে লেবেলিং, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ এবং হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। সবকিছুই সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তিনি।
জোয়ালা গুট্টা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, সবকিছু চ্যালেঞ্জের হলেও তিনি প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে এই কাজ করেছেন।
জোয়ালা জানিয়েছেন, একটি ১ কেজি ওজনের অপরিণত শিশুর পুষ্টির জন্য মাত্র ১০০ মিলি ডোনার মিল্ক কয়েক দিন পর্যন্ত যথেষ্ট হতে পারে। সেই হিসেবে তার দান করা ৬০ লিটার বা ৬০,০০০ মিলিলিটার ‘তরল সোনা’ কয়েকশ শিশুর প্রাণ বাঁচাতে বা সুস্থ করতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে যেসব মায়েরা প্রসব পরবর্তী জটিলতার কারণে সরাসরি স্তন্যপান করাতে পারেন না, তাদের শিশুদের কাছে এই পাস্তুরাইজড মানব দুগ্ধ আশীর্বাদের মতো।
জোয়ালা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন ‘নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস’ (এনইসি) নামক এক ভয়াবহ অন্ত্রের রোগের কথা। অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে কৃত্রিম ফর্মুলা দুধের চেয়ে প্রাকৃতিক মাতৃদুগ্ধ এই রোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তার এই সংগৃহীত উৎস সরকারিভাবে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে শিশুদের দেওয়া হয়েছে, যা নিওনেটাল কেয়ারের ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।’
চিকিৎসকদের মতে, মাতৃদুগ্ধ অপরিণত শিশুদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস (এনইসি) নামের মারাত্মক অন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কৃত্রিম ফর্মুলা দুধের তুলনায় মাতৃদুগ্ধে অনেক কম থাকে। ফলে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন শিশুদের জন্য ডোনার মিল্ক একটি নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পুষ্টি উৎস।
জোয়ালা গুট্টা জানান, রক্তদানের মতোই মাতৃদুগ্ধ দানকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত। তার মতে, দেশে মানব দুগ্ধ ব্যাংকের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম, তাই এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
মাতৃত্বকালীন শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নবজাতক মৃত্যুহার কমাতে এবং নিওনেটাল কেয়ার ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এমআর