আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল মিনুকি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সাহসী মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও জটিল এক অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আইএসআইএসের বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি ভেবেছিল আফ্রিকায় লুকিয়ে থাকতে পারবে। কিন্তু সে জানত না, আমাদের কাছে এমন তথ্যসূত্র ছিল যারা তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের অবগত করেছিল।’
অভিযানে সহযোগিতার জন্য ট্রাম্প নাইজেরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
২০২৩ সাল থেকেই আল-মিনুকি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। তখন তাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তাকে সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় আইএসআইএল-এর জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তিনি সংগঠনটির ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব প্রভিন্সেস’-এর সদস্য ছিলেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসআইএল-এর কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা ও অর্থায়ন করে থাকে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ‘তার মৃত্যুর মাধ্যমে আইএসআইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম বড় ধরনের দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দমনে দেশটির সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে আবুজা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হামলার শিকার শুধু খ্রিস্টান নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও হচ্ছেন।
গত বছরের বড়দিনে নাইজেরিয়ার সকোতো অঙ্গরাজ্যে আইএসআইএল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। এরপর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শত শত সেনা নাইজেরিয়ায় মোতায়েন করে। তবে নাইজেরিয়া জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা সেখানে কেবল সহায়তামূলক ভূমিকায় রয়েছে।
এমআর