আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬, ০৭:৪১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণার পরেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন প্যারামেডিক। আহত হয়েছেন আরও এক প্যারামেডিক। তার অবস্থাও গুরুতর। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার দক্ষিণ লেবাননের হারুফ শহরের একটি সিভিল ডিফেন্স সেন্টারে এ হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ওয়াশিংটনে দুই দিনের আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে।
বুধবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় আট শিশুসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি, পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আলোচনার লক্ষ্য।
তিনি জানান, জুনে আবারো রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। পাশাপাশি আগামী ২৯ মে পেন্টাগনে দুই দেশের সামরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার আলোচনাকে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে আরব ও আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের চেষ্টা চালানো হবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও গোলন্দাজ হামলা বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় হিজবুল্লাহর অবস্থান ও অবকাঠামো লক্ষ্য করা হচ্ছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, হামলায় বেসামরিক মানুষ ও উদ্ধারকর্মীরাও নিহত হচ্ছেন। ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, ভবিষ্যতে হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকাতে দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন গড়ে তুলতে চায় তারা।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। যদিও এ অভিযোগও অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।
গত ২ মার্চ নতুন করে এই সংঘাত শুরু হয়। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ৮৯৬ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের হিসাবে, একই সময়ে দেশটির ১৮ সেনা ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।
এমআর