আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ভিত্তিতেও দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকার আশঙ্কায় বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে।
শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৯ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬২৫ দশমিক ৭০ ডলারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এতে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আরও কমল স্বর্ণের দাম
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এ সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠেছে। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আজ দিনের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বসবেন। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাণিজ্য ও কূটনৈতিক নানা ইস্যুর পাশাপাশি তাইওয়ান প্রশ্নেও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরকালে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে মোকাবিলা করা না হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে’ পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে আপাতত সুদের হার নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।
আরও পড়ুন: তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন দরে স্বর্ণ
ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালক জানিয়েছেন, দেশটি অগ্রিম অনুমোদন প্রকল্পের আওতায় স্বর্ণ আমদানি ১০০ কিলোগ্রামে সীমিত করবে। যদিও রপ্তানিকারকদের জন্য কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন সামান্য বেড়েছে। তবে শ্রমবাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে এপ্রিল মাসে টানা তৃতীয় মাসের মতো দেশটির খুচরা বিক্রি বেড়েছে, যদিও এর একটি অংশ মূল্যস্ফীতির প্রভাবেও হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২ দশমিক ৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৩ দশমিক ২৫ ডলারে। আর প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ০ দশমিক ১ শতাংশ, যা বর্তমানে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৩৫ দশমিক ৩৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এমআই