আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মে ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সোমবার এই নিয়ম কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, সরকারি স্কুলগুলোতে প্রার্থনা সঙ্গীতের সময়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে— এই মর্মে বিকাশ ভবন থেকে আগেই জেলা স্কুল পরিদর্শকদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল। স্কুলগুলোতেই সেই নির্দেশিকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্ন থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।
এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সকালের সমাবেশে সকল শিক্ষার্থী এই গানে অংশ নেয়। এছাড়া সমাবেশের কার্যক্রম ভিডিও রেকর্ড করার কথাও বলা হয়েছে, যাতে বাস্তবায়নের প্রমাণ রাখা যায়।
রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর (বিকাশ ভবন) জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের জাতীয় গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে রাজ্য সরকার এটি কার্যকর করেছে। এই নির্দেশনা রাজ্যের সব সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলগুলোকেও এই অনুশীলন শুরুর অনুরোধ করা হবে।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে রাজ্য সঙ্গীত 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
নতুন নির্দেশনায় আগের সেই নির্দেশ সংশোধন করে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর পাশাপাশি এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রের নির্দেশকে পূর্ববর্তী সরকার এতদিন কার্যকর করতে দেয়নি, এখন সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার সময় এসেছে।
এদিকে রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশ এবং প্রধান শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, দৈনিক মাত্র ১০ মিনিটের সমাবেশে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান একসাথে গাওয়ার সময়সূচি কীভাবে মেলানো হবে, তা নিয়ে তারা শিক্ষা দপ্তরের আরও স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষা করছেন।
প্রসঙ্গত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’ হলো ভারতের জাতীয় গান, যা ১৮৮২ সালের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের মাধ্যমে দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এতে সুরারোপ করেন এবং এটি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান মন্ত্র হিসেবে ব্রিটিশ বিরোধী লড়াইয়ে ব্যবহৃত হতো। সম্পূর্ণ গানটি সংস্কৃত ও বাংলার মিশ্রণে রচিত, যার প্রথম দুটি স্তবকই মূলত ভারতের জাতীয় ‘স্তোত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার, টিভি৯
এমএইচআর