আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ মে ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত দশ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফর এটি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে বেইজিং গিয়েছিলেন ট্রাম্প।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এয়ারফোর্স ওয়ানে করে রাজধানী বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ট্রাম্প। এসময় চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ও দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টর জন্য জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও আয়োজন করে বেইজিং।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সফরকালে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করবেন ট্রাম্প। সফরের সূচিতে রয়েছে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং ঝোংনানহাই সফর — যেখানে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব বসবাস ও কাজ করেন।
এদিকে ট্রাম্পের এই সফরটি গত মার্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে হামলা করায় সফরটি পিছিয়ে যায়। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ থামার পর তিনি চীন যাবেন। তবে যুদ্ধ না থামলেও রাষ্ট্রীয় সফরে আর বিলম্ব করতে চান না ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধ এবং এর সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তাদের মধ্যকার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ইস্যুতে তার শি জিনপিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন নেই।
বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিলে বেইজিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।
তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে আমাদের কারও সাহায্যের দরকার নেই। আমরা কোনো না কোনোভাবে জিতে যাব—তা আলোচনা বা যুদ্ধ যেভাবেই হোক। ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের বিভিন্ন দাবি নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে।
অন্যদিকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তাইওয়ান ইস্যুও ট্রাম্পের এ সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেক কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জায়গা পেয়েছেন। সেই তালিকায় অ্যাপলের শীর্ষ কর্মকর্তা টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়া মেটার ভাইস চেয়ারম্যান ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক, ভিসার প্রধান নির্বাহী রায়ান ম্যাকলনার্নি, বোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ, ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, কার্গিলের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান ব্রায়ান সাইকসসহ আরও বেশ কিছু মার্কিন কোম্পানির উচ্চপদস্ত কর্মকর্তারাও যাচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, তিনি চীনকে বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের বাজার আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাবেন। এসব কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে গত অক্টোবর মাসে হওয়া ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো, যা দুই দেশের মধ্যে শুল্ক বৃদ্ধির উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমিয়েছিল।
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি
এমএইআর