আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ মে ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় মার্কিন ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহ পর সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আরেক মূল্যবান ধাতু রুপার দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছ। এছাড়া জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে দিনের শুরুতে দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর স্পট রুপার দাম ২ দমমিক ৪ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির অভাবের কারণে তেলের দাম বাড়ারই প্রতিফলন ঘটেছে আজ সোনা এবং রুপার দামে।
মূলত, দুই মাসব্যাপী যুদ্ধ নিরসনে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবেও অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান সংঘাত নিরসনের মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। ইরানের দেয়া পাল্টা দাবিগুলোকে ‘আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
রয়টার্স বলছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ থাকায় তেলের দাম আবারো ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে আজই যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের মুদ্রাস্ফীতির (সিপিআই) তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) পরবর্তী সুদের হারের সিদ্ধান্ত নেবে।
সাধারণত তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা সুদের হার কমানোর পথ বন্ধ করে দেয়। আর সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো অফলনশীল মূল্যবান ধাতুর চাহিদা কমে যায়।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর