images

আন্তর্জাতিক

কুয়েতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আইআরজিসির ৪ সদস্য গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে কুয়েতের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

মঙ্গলবার দেশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক বিবৃতির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনুপ্রবেশকারীরা স্বীকার করেছে যে তারা ইরানের আইআরজিসির সদস্য।’

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীরা স্বীকার করেছে যে, কুয়েতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে একটি ভাড়া করা মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে দেশটির বুবিয়ান দ্বীপে অনুপ্রবেশের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছিল। তবে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তার আগেই তাদের গ্রেফতার করে।

এতে বলা হয়েছে, আটকের আগে অভিযুক্ত অনুপ্রবেশকারীরা কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে তাদের একজন নিরাপত্তা সদস্য আহত হয়েছেন।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কর্মকাণ্ডের জন্য ইরানের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেতে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 

এরআগে গত শনিবার বাহারাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইআরজিসি হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশাটির কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয় আরও বলছে, বাহরাইনের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতরা আইআরজিসির হয়ে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত নির্ভুল ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতি সহানুভূতি এবং ‘বিদেশী শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, পাশাপাশি এই চক্রের কার্যকলাপে বা আইন লঙ্ঘনকারী কাজে জড়িত আরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তল্লাশি ও তদন্ত অভিযান অব্যাহত আছে।

এর আগে গত মার্চে একই অভিযোগে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল বাহারাইন পুলিশ। এছাড়াও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে তেহরানের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটি। 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কুয়েত ও বাহরাইন। দেশগুলোর বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি ও জ্বালানি অবকাঠামোগত বিভিন্ন স্থাপনার গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বেশকয়েক জন নিহতও হয়েছেন।  

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

এমএইচআর