images

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ মে ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি বাহিনী আবারও হামলা চালালে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান, যা একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের সমান।

মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আরেকটি হামলার ঘটনায় ইরানের অন্যতম একটি বিকল্প হতে পারে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ।’

বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইরানের পার্লামেন্টে পর্যালোচনার পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান রেজায়ি।

তেহরানের পক্ষ থেকে এই হুমকি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশটির সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

মূলত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’-এর কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বারবারই জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। 

সোমবারও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্ত্রের মজুদের ওপর ‘ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে, এবং কেউ ওই স্থানের কাছাকাছি এলে ওয়াশিংটন তা জানতে পারবে এবং তাদের উড়িয়ে দেবে’।

প্রসঙ্গত, ইরান ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং দাবি করে যে এর উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ। ২০১০ সালে তেহরান ঘোষণা করে, জ্বালানি তৈরির উদ্দেশ্যে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে।  ্

তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা- আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মনে করে, ইরানের মজুত থাকা ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম (৯৭২ পাউন্ড) ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে, যা মূলত একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্তর, কারণ এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার খুব কাছাকাছি। 

এছাড়াও ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো অনেক সহজ এবং দ্রুততর প্রক্রিয়া। যার ফলে ইরানের এই ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

এরআগে ২০২১ সালের জুন মাসে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও স্বীকার করেছিলেন, প্রয়োজন হলে তেহরান ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে। 

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইআর