আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ মে ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত পাকিস্তান কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে এক মাসব্যাপী পরোক্ষ আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ বর্তমানে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে কাজ করছে। ১৪ দফার এ খসড়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনার কাঠামো তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করবে।
সূত্রগুলোর দাবি, প্রস্তাবিত খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও কিছু মূল বিষয় অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিমাণ নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে, যা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংলাপ ইতিবাচকভাবে এগোলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রাথমিক এক মাসের আলোচনার সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
প্রসঙ্গত, টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
এরপর গত মাসে শেষের দিকে আবারো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে তা ভেস্তে যায়।
তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিচ্ছে অন্যদিকে, বন্দর অবরোধ করে চাপ সৃষ্টি করছে — দুটো জিনিস একসঙ্গে চলতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসা অর্থহীন।
সূত্র: মিডল ইষ্ট মনিটর
এমএইচআর