আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ মে ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ে বিরিয়ানি ও তরমুজ খেয়ে একই দুই শিশুসহ একই পরিবারের মর্মাান্তিক মৃত্যু হয়েছে। খাদ্য বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ফরেনসিক পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে, তরমুজে থাকা ইঁদুর মারার বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় পরিবারটির।
এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়িতে আরও পাঁচজন আত্মীয়ের সঙ্গে রাতের খাবার খান মোবাইল যন্ত্রাংশের ব্যবসায়ী ৪০ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আব্দুল কাদের, তার স্ত্রী ৩৫ বছর বয়সী নাসরিন এবং তাদের দুই মেয়ে ১৩ বছর বয়সী জয়নাব ও ১৬ বছর বয়সী আয়েশা। খাবারের তালিকায় ছিল বিরিয়ানি। ভোজ শেষে আত্মীয়রা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যান।
পরে রাত প্রায় ১টার দিকে পরিবারটি তরমুজ খায়। তবে ভোর ৫টার দিকে তাদের শরীর খারাপ লাগে এবং বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। প্রথমে একজন স্থানীয় ডাক্তার তাদের চিকিৎসা করেন, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাদের দ্রুত জেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসা সত্ত্বেও ছোট মেয়েটি পরদিন আনুমানিক সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মারা যায়। কয়েক ঘণ্টা পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মা নাসরিন ও বড় বোন আয়েশারও মৃত্যু হয় এবং রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান পরিবারের কর্তা আবদুল্লাহ।
ময়নাতদন্তের কয়েকদিন পর এই মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, যেখানে দেখা যায় তাদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ডসহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সবুজ হয়ে গেছে—যা বিষক্রিয়ার লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়।
ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসকরা তাদের শরীরে জিঙ্ক ফসফাইটের আলামত পেয়েছেন, যা ইঁদুর মারার জন্য বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আবদুল্লাহর শরীরে ‘মরফিন’র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মরফিন এক ধরনের শক্তিশালী ব্যথানাশক; যা সাধারণত কঠোর চিকিৎসাগত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এসব রাসায়নিক কি দুর্ঘটনাবশত তরমুজে মিশেছে, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢোকানো হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ওইদিন দাওয়াতে আসা আত্মীয়দের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর