আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ মে ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হবেন কে? তা চূড়ান্ত করতে কলকাতায় পৌঁছেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুপুরের পর বিজেপির নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। এই বৈঠকেই স্থির হতে পারে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বেলা ১১টার পর কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান অমিত শাহ। সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অনেকে। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান দক্ষিণেশ্বরে। মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি যাবেন নিউ টাউনের হোটেলে।
নিউ টাউনের ওই হোটেলে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। বিজেপির নির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওই অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন শাহ।
পরে বিকেলে বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী ২০৭ জন প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ। সেখানে হাজির থাকবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। রীতি মেনে জয়ী প্রার্থীদের মতামত নেওয়ার পরে স্থির হবে কে হবেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা। তিনিই হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।
মূলত, বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে অমিত শাহকে। সেই কাজে তার সহকারী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে।
রীতি অনুযায়ী, যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পরে পরিষদীয় দলনেতা বাছাই করার সময় সেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাঠান বিজেপি নেতৃত্ব। তারা দলের নবনির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই পরিষদীয় দলনেতার নাম ঘোষণা হয়ে যায়।
সূত্রের খবর, এবার বিধানসভার অন্দরে বিজেপির ভূমিকা বদলাতে চলেছে। বিরোধী ভূমিকার বদলে বিজেপি এখন বিধানসভায় সরকারপক্ষের ভূমিকায় থাকবে। সে ক্ষেত্রে নতুন মুখ্যমন্ত্রীই হবেন বিধানসভায় শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা। অর্থাৎ, এবারের বৈঠকে শুধু পরিষদীয় দলনেতা নন, একই সঙ্গে স্থির হয়ে যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামও।
এদিকে পশ্চিবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
অমিত শাহের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তবে দলের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে পদ্মশিবির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, গত পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর ভূমিকা তাকে সবচেয়ে বড় দাবিদার প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শুভেন্দু অধিকারী এই নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানিপুরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী তিনি ভবানিপুরে লিড নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এবং সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এদিকে শুভেন্দু পরই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি এবং দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি খড়গপুর সদর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং সেখানে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন। দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ এবং দলের প্রসারে তার ভূমিকার কারণে তাকেও মুখ্যমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ শমীক ভট্টাচার্যের নামও আলোচনায় আছে। রাজনৈতিক মহলে তাকে একজন দক্ষ বক্তা এবং তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও আছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং ওয়ার রুমে থেকে ভোট প্রক্রিয়া তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তাকে এই পদের দৌড়ে সামিল করেছে।
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী নেতা নিশীথ প্রামাণিকও রযেছেন এই তালিকায়। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। উত্তরবঙ্গে দলের শক্ত ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় তার নামটিও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়াও সাবেক সাংবাদিক এবং পদ্মভূষণ জয়ী স্বপন দাশগুপ্তও এই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। তাকে বিজেপির বুদ্ধিজীবী মহলের একজন প্রতিনিধি এবং ‘ভদ্রলোক’ রাজনীতির মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে কার নামে শেষপর্যন্ত সিলমোহর পড়বে, কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে, তা শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যার নাম চূড়ান্ত হবে, তিনিই সন্ধ্যায় নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে রাজভবনে যাবেন এবং রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচআর