আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ মে ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
কাতারের আকাশ থেকে আচমকাই ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেল মার্কিন বিমানবাহিনীর রিফুয়েলিং বিমান কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার।
রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার আগে পাইলট জরুরি অবতরণের বার্তা ‘৭৭০০’ পাঠিয়েছিলেন।
তার পরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের ওপর থেকে বিমানটি ‘নিখোঁজ’ হয়ে যায়।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি থেকে উড়েছিল এই বিমান।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের সময় এই বিমানটি মোতায়েন করা হয়েছিল। ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য বলছে, ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার আগে কাতারের আকাশে বেশ কয়েক বার চক্কর কাটে।
তার পরই নীচের দিকে নামতে শুরু করে। কিন্তু তার পর আচমকাই বিমানের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তবে কী কারণে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন পাইলট, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বিমানের ওপর হামলা হয়েছে, এমন খবরও পাওয়া যায়নি বলে মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে চীন
ইরানের আধা-সরকারি নিউজ এজেন্সি ফার্স-এর প্রতিবেদনে মার্কিন বাহিনীর এই রিফুয়েলিং বিমানের উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আমেরিকা বা ইরানের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি এখন পর্যন্ত। মার্কিন বাহিনী থেকেও কোনো বিবৃতি জারি করা হয়নি বিমানের বিষয়ে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা এবং ইসরায়েল।
সেই সামরিক সংঘাত চলাকালীন পশ্চিম ইরাকে মার্কিন বাহিনীর কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী সেই সময় দাবি করেছিল যে, বিমানটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে।
বর্তমানে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে গত কয়েক দিন ধরেই আবার নতুন করে সামরিক উত্তাপ বেড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। সোমবারই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে।
হরমুজে পাল্টা হামলা চালায় আমেরিকাও। হরমুজ দখলমুক্ত করতে সম্প্রতি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করেছে আমেরিকা। তার মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর সামরিক বিমান উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।
কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমান মূলত মাঝ-আকাশে যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার কাজ করে। গত দু’মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন রয়েছে এই বিমান। জ্বালানি ভরা ছাড়াও উদ্ধারকাজেও এই বিমান ব্যবহার করা হয়।
-এমএমএস