images

আন্তর্জাতিক

বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখতে নতুন আইন ফ্রান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

অনিয়মিত অবস্থায় ফ্রান্সে অবস্থানরত এবং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিকভাবে আটক রাখার সময়সীমা বাড়ানো সংক্রান্ত একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছে ফরাসি পার্লামেন্ট। 

বিলটি ৩৪৫ জন সংসদ সদস্যের ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) থেকে শুরু করে মধ্যপন্থি দলগুলোর সংসদ সদস্যরা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চলতি মাসের ২০ তারিখ ফরাসি আইনসভার উচ্চকক্ষ বা সিনেটে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে এটি।

নতুন আইনের মাধ্যমে ‘বিপজ্জনক’ বিদেশিদের জন্য প্রশাসনিক আটক রাখার সময়সীমা সাত মাস (২১০ দিন) পর্যন্ত বাড়ানো হবে। 

মূলত, যারা ফরাসি ভূখণ্ড ছাড়ার নোটিশ পেয়েছেন, অতীতে কমপক্ষে তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছে এবং যারা জননিরাপত্তার জন্য ‘বিশেষভাবে গুরুতর’ হুমকি হিসেবে বিবেচিত, তাদের ক্ষেত্রে নতুন এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।

গত গ্রীষ্মে আটকের মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত আইনটি ফ্রান্সের সাংবিধানিক কাউন্সিল বাতিল করে দিয়েছিল। এর পরপরই কিছু সংসদ সদস্য সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করে এই আইনের একটি সংক্ষেপিত সংস্করণ পুনরায় প্রস্তাব করেছেন।

বর্তমান আইনে আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন, আর সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিতদের জন্য তা ১৮০ দিন পর্যন্ত। এই আইনের অধীনে, সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিতদের জন্যও ২১০ দিনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিদের যদি পালানোর ঝুঁকি থাকে তাদের প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র (সিআরএ)-এ রাখা হতে পারে। 

অপরদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের শর্তগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এবং দাবি করেছে যে দীর্ঘমেয়াদী আটক ব্যবস্থা কার্যকর নয়, কারণ অধিকাংশ বহিষ্কার দ্রুত কার্যকর হয়।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলে এই বিলটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত সাংসদ সেলিন হেরভিউ মন্তব্য করেছেন, “এটি এমন একটি আইন, যা ‘বিচার ছাড়া কারাগার’ প্রতিষ্ঠা করে।”


সূত্র: এএফপি/ইনফোমাইগ্রেন্টস 


এমএইচআর