images

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪, ওসি গুলিবিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতভর একাধিক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে অন্তত চারজন নিহত এবং দুই পলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েক জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী কলকাতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেলেঘাটায় তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৪৫) একটি ফোন কল পেয়ে বাইরে বেরোনোর ​​পর নিজের বাড়ির দরজার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। 

পুলিশের ধারণা, তাকে ধাওয়া করা হয়েছিল, তিনি ছাদের ওপর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে পড়ে যান। যদিও তার পরিবারের অভিযোগ তাকে টেনে বের করে মারধর করা হয়েছিল।
 
বিশ্বজিতের পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘তারা দরজা ভেঙে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। প্রতিবেশীরা এতটাই ভয় পেয়েছিল যে সাহায্য করতে পারেনি।’ 

তবে বিজেপি এ ঘটনায় কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। 

এদিকে কয়েক ঘণ্টা পর শহর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নিউ টাউনে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল (৪৬) মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, একটি দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের সময় তাকে ধাক্কা ও লাথি মারা হয়েছিল। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মধুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, মধু মন্ডলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় এক অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও তার বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে বিজেপি সমর্থকরা। 

image

এছাড়াও কলকাতাজুড়ে দ্রুত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বেহালা থেকে কালীঘাট ও শ্যামপুকুর পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়গুলোতে হামলা চালানো হয়, পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকায় একজন কাউন্সিলরের কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড জুড়ে টিএমসি-র কার্যালয় দখল বা ভাঙচুর করা হয় এবং বিজেপির পতাকা উত্তোলন করা হয়। কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং ছাত্রকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে অপরকে দোষারোপ করে। 

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।

কলকাতার বাইরে সহিংসতা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। কলকাতা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মী যাদব বার (৪৫)-কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

পুলিশ সম্ভাব্য ব্যক্তিগত বিরোধের কথা উল্লেখ করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তদন্ত করার সময় চার সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

তার পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিজেপি কর্মীদের দায়ী করেছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দায়ী বলে দাবি করেছে।

এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন কর। 

পুলিশ জানিয়েছে, রাজবাড়িতে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ওসি ভরত। তখনই একটি বাড়ির ভিতর থেকে গুলি চালানো হয়, যা ভরতের পায়ে এসে লাগে। ওসি ভরত ছাড়াও তার টিমের একজন কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের দু’জনকেই কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


এমএইচআর