আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে বিজেপি। এতে দলটি প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে— তা প্রায় নিশ্চিত। তবে এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, গত পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর ভূমিকা তাকে সবচেয়ে বড় দাবিদার প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শুভেন্দু অধিকারী এই নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানিপুরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী তিনি ভবানিপুরে লিড নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এবং সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
তবে সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘না, আমি এই স্পর্শকাতর প্রশ্নের কোনও মন্তব্য করব না।বিজেপি হলো সম্মিলিত নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদির মহান নেতৃত্বে আমরা এই নির্বাচনে লড়েছি এবং ফলাফল আসছে’।
এদিকে শুভেন্দু পরই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি এবং দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি খড়গপুর সদর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং সেখানে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন। দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ এবং দলের প্রসারে তার ভূমিকার কারণে তাকেও মুখ্যমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ শমীক ভট্টাচার্যের নামও আলোচনায় আছে। রাজনৈতিক মহলে তাকে একজন দক্ষ বক্তা এবং তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও আছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং ওয়ার রুমে থেকে ভোট প্রক্রিয়া তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তাকে এই পদের দৌড়ে সামিল করেছে।
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী নেতা নিশীথ প্রামাণিকও রযেছেন এই তালিকায়। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। উত্তরবঙ্গে দলের শক্ত ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় তার নামটিও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়াও সাবেক সাংবাদিক এবং পদ্মভূষণ জয়ী স্বপন দাশগুপ্তও এই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। তাকে বিজেপির বুদ্ধিজীবী মহলের একজন প্রতিনিধি এবং ‘ভদ্রলোক’ রাজনীতির মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমশিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৯৯টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি, আর ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল এগিয়ে আছে মাত্র ৮৮টি আসনে। এছাড়া ২টি করে আসনে এগিয়ে আছে বামপন্থি সিপিএম ও কংগ্রেস এবং ২টি আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচআর