আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম
আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত নেদারল্যান্ড-ভিত্তিক একটি ক্রুজ জাহাজে তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, হান্টাভাইরাস সংক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি পরীক্ষায় অসুস্থ একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও পাঁচটি সন্দেহভাজন ঘটনা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
সংক্রমণের ঘটনাটি ঘটে এমভি হন্ডিয়াস নামে একটি পর্যটকবাহী জাহাজে, যা আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।
তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন পর্যটক ছিলেন। গত ২০ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা জাহাজটি ৪ মে কেপ ভার্দেতে পৌঁছানোর কথা ছিল। যাত্রাপথে এটি অ্যান্টার্কটিকা, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, সাউথ জর্জিয়া, সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশনসহ একাধিক স্থানে থামে।
নিশ্চিত সংক্রমণটি এক ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। তিনি সেন্ট হেলেনা থেকে অ্যাসেনশন দ্বীপে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তর করা হয়।
পর্যটকবাহী জাহাজটি পরিচালনা করছে ‘ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ‘একটি গুরুতর চিকিৎসা পরিস্থিতি’ মোকাবিলা করছেন। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দুইজন ডাচ যাত্রীর মৃত্যু তথ্য দিলেও এর বাইরে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, আক্রান্ত যাত্রীদের মধ্যে একজন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে, তারা এই প্রাদুর্ভাবের তদন্ত করছে। পরীক্ষাগারে ছয়জনের মধ্যে একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে ডাচ কর্তৃপক্ষ দুইজন উপসর্গযুক্ত যাত্রী এবং একজন মৃত ব্যক্তির মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র বা মলের সংস্পর্শে ছড়ায়। বিরল ক্ষেত্রে এটি মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে এবং গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা ও রয়টার্স।
এমআর