আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে তা ‘পূর্বানুমেয়’ ছিল বলে মন্তব্য করেছে বার্লিন। একই সঙ্গে ন্যাটো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইছে।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস ডিপিএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দুই দেশেরই স্বার্থে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে আমরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ইউরোপকে অবশ্যই প্রতিরক্ষা ব্যয় ও নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বাড়াতে হবে।
ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে আসে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। মের্ৎস বলেছিলেন, ইরান-সম্পর্কিত চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি আলোচকদের কাছে “অপমানিত” হতে হয়েছে।
বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ হাজারের বেশি সেনা আছে, যা ইউরোপে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। এছাড়া ইতালিতে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
সেনা প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সংখ্যাটা অনেক কমাব, এমনকি ৫ হাজারের চেয়েও বেশি হতে পারে।’ তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
গত বছর রোমানিয়াতেও সেনা উপস্থিতি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন, যা ইউরোপ থেকে সরে গিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেশি মনোযোগ দেওয়ার ট্রাম্পের নীতির অংশ বলে ধরা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ জোটকে দুর্বল করতে পারে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরের শত্রু নয়, বরং আমাদের জোটের ভেতরেই চলমান বিভাজন। এই ‘বিপজ্জনক প্রবণতা’ থামাতে সবাইকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির দুই শীর্ষ আইনপ্রণেতাও জার্মানি থেকে একটি ব্রিগেড প্রত্যাহার নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সেনা সরানোর পরিবর্তে শক্ত প্রতিরোধ বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে জরুরি।
পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপকে এখন নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে নিতে হবে। তিনি জানান, জার্মানি ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা জোরদার করবে।
ট্রাম্প আগে জার্মানিকে ন্যাটোর নির্ধারিত জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় লক্ষ্য পূরণে ‘অবহেলা’ করার অভিযোগ করেছিলেন। তবে নতুন সরকারের অধীনে জার্মানি এখন বড় ধরনের ব্যয় বাড়াচ্ছে।
২০২৭ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০৫.৮ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯১ বিলিয়ন পাউন্ড) পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোট হিসাবে, অন্যান্য খাতসহ জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩.১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: বিবিসি।
এমআর