আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ মে ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গত দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনিবারের নতুন হামলার পর একদিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬৫৯ জন নিহত এবং ৮ হাজার ১৮৩ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দুইজন নিহত হন। লওয়াইজে গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। শৌকিন গ্রামে পৃথক আরেকটি হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে এনএনএ।
ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস রাউন্ডআবাউটের কাছে এবং টাইর জেলার সিদ্দিকিন শহরেও বিমান হামলা চালায়।
ইসরায়েল দাবি করছে, এসব হামলার লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তবে স্থানীয় সূত্র ও লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলছে, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা হিজবুল্লাহর
অন্যদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখবে।
গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বিন্ত জবেইলে কামান হামলা এবং হুলা গ্রামে সেনা অবস্থানে আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইয়াদা এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।
হিজবুল্লাহ সম্প্রতি ফাইবার-অপটিক কেবল-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলি ট্যাংকে হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব হামলায় তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকা দখল করেছে। একই সময়ে তারা ব্যাপক বিমান হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় এবং পরে তা তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন পক্ষ এই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর নেই, বরং দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর